কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী দক্ষিণ বালুমহাল লিজ দেওয়ার পর থেকে তৎকালীন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশ, অবহেলা ও গাফিলতির কারনে ইজারাদার ও তার সেল্টারদাতাদের দ্বারা ধলাই সেতু ধ্বংস, সাদাপাথর ও বাংকার লুটপাটে বিশেষ ভূমিকা রাখে।এসব লুটপাটের প্রেক্ষিতে গঠিত হয় ধলাই সেতু রক্ষা আন্দোলন কমিটি।ধলাই সেতু রক্ষা আন্দোলন কমিটির আন্দোলনের মুখে সাদাপাথর ও বাংকারে লুটপাট ও সেতুর নিচে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়। প্রায় ১ মাস থেকে কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর কাণ্ডে লুটপাট , সেতুর নিচে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও গত ৫/৬ দিন থেকে আবারও বালুখেকোরা ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলন শুরু করে। বিষয়টি নতুন ইউএনও মহোদয়কে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং অভিযান শুরু করেন। গত ৩ তারিখ বিকালে সেতুর নিচে তিনি প্রথম অভিযান দিয়ে একটি নৌকা ডুবান,একটি লিষ্টার মেশিন ধ্বংস একটি স্টিল বডি আটক করেন তাতেও বালুখেকোরা বন্ধ না হয়ে রাতেই ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলন করে, বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানালে গত রাতে তিনি টাস্কফোর্সের অভিযান দিয়ে ৬ স্টিল বডি ভাল্কহেড,২টি লিষ্টার মেশিন আটক ও ১১ জনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ১০ দিনের সাজা প্রদান করেন।অভিযানে নেতৃত্বদেন ইউএনও মোঃ রবিন মিয়া সাথে ছিলেন ওসি মোঃ রতন শেখ, কালসাদেক বিওপির কোম্পানি কমান্ডার ইকবাল হোসেনসহ পুলিশ,বিজিবির একটি টিম। এ খবরে ধলাই সেতু রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ নিজাম উদ্দিন ইউএনও মহোদয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন তিনি এখন ধলাই সেতু রক্ষায় সুপারম্যানের ভূমিকা পালন করছেন এবং সাথে আছেন নতুন ওসি রতন শেখ ও। এলাকাসী উপজেলা প্রশাসনের এমন ভূমিকায় খুবই উচ্ছ্বসিত। তাদের দাবী উপজেলা প্রশাসনকে বালুখেকোদের বিরুদ্ধে এরকম এ্যাকশন নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে আর তাতেই আমাদের স্বপ্নের সেতু রক্ষা হবে ইনশাআল্লাহ। এবিষয়ে ইউএনও মোঃ রবিন মিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসন জিরো টলারেন্স দেখাবে কারন আমরা ব্রিজ রক্ষার পাশাপাশি কবরস্থান, খেলার মাঠ ও গ্রামকেও রক্ষা করতে চাই। তাই আমাদের এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নবাগত ওসি রতন শেখ বলেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্র আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমরা তা যথাযথ ভাবে পালন করতে বদ্ধপরিকর। এবং তারই অংশ হিসেবে গতরাতে অভিযানে আমরা ৬ টি স্টিল বডি ভাল্কহেড,২ টি লিষ্টার মেশিন নৌকা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ১১ জনকে আটক করি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নামের তালিকা
১:নাম মোঃ এবাদুর রহমান(২২)
পিতা মৃত আব্দুল খালেক
মাতা মোসাম্মৎ মিনারা বেগম
সাং দুরালপুর
থানা জামালগঞ্জ
জেলা সুনামগঞ্জ
২:মো: একরাম হোসেন(২২)
পিতা মোঃ ইজ্জত আলী
মাতা রাহেনা বেগম
সাং দুর্লভপুর
থানা জামালগঞ্জ
জেলা সুনামগঞ্জ
৩:নাম মো: আতাউর রহমান (৩৩)
পিতা আব্দুল হানিফ
মাতা মোসাম্মৎ কারিমুন নেছা,
থানা জামালগঞ্জ,
সুনামগঞ্জ।
৪:নামঃ মোঃ নজরুল ইসলাম(৩৫) পিতা মোঃ আব্দুস সুবাহান,
মাতা মৃত রং বানু বেগম,
থানা জামালগঞ্জ,
সুনামগঞ্জ।
৫.মোহাম্মদ মফিকুল হক (৩০)পিতা-মৃত মনির উদ্দিন
মাতা মোছাম্মৎ মহিবুন্নেছা
সাং সংগ্রামপুর
থানা বিশম্ভরপুর
জেলা সুনামগঞ্জ
৬ নাম মোঃ মহাসিন আহমদ( ২৮)
পিতা মৃত আব্দুল হাই,
মাতা গুলজার বেগম,
সাং হরিণাকান্দি
থানা জামালগঞ্জ
জেলা সুনামগঞ্জ
৭।মোহাম্মদ তৌফিক মিয়া (৩০)
পিতা-মৃত্যু দেওয়ান
মাতা মোসাম্মৎ খোদেজা বেগম
থানা তাহিরপুর
জেলা সুনামগঞ্জ
৮। নাম্বার নামঃ মোঃ আলী হোসেন (২৩
পিতা মনজুর আলী
মাতা সাজেদা বেগম
সাং শুলাহা থানা
তাহিরপুর জেলা
সুনামগঞ্জ
৯।মো: সজিব)(২২)
পিতা মোহাম্মদ খুরশিদ মিয়া
মাতা মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম
সাং বসন্তপুর
থানা বিশম্ভপুর
জেলা সুনামগঞ্জ
১০। মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান(২৯)
পিতা মোঃ রইছ আলী
মাতা মোসাম্মৎ আলেয়া বেগম
সাং দুর্গাপুর
থানা জামালগঞ্জ
জেলা সুনামগঞ্জ
১১ মোহাম্মদ আলী রাজ (২৮)
পিতা মৃত গোলাম মোস্তফা
মাতা লালতা বেগম থানা
সাং উলান নাহার
থানা বিষম্ভপুর
জেলা সুনামগঞ্জ।
নতুন সংবাদ প্রতিদিন