ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ধলাই সেতু রক্ষায় কোম্পানীগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে: প্রশাসনকে দায় নিতে হবে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 27, 2025 ইং
ধলাই সেতু রক্ষায় কোম্পানীগঞ্জে  মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে:  প্রশাসনকে দায় নিতে হবে
আব্দুল হামিদ, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিলেট

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ধলাই সেতু রক্ষায় শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে সেতুর পূর্বপ্রান্তে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষার্থী, রাজনীতি সচেতন নাগরিক এবং সামাজিক সংগঠনের বিপুল অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ধলাই সেতু যদি ধ্বংস হয়, তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই ক্ষতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই ধলাই নদীর তীরজুড়ে চলছে অবাধ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন। যার ফলে সেতুর পিলারগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বক্তারা জানান, ২০০৫ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ধলাই সেতুটি কোম্পানীগঞ্জ সদরকে ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়ন—তেলিখাল, ইসলামপুর ও উত্তর রণিখাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। শুধু যোগাযোগ নয়, সেতুটি কোম্পানীগঞ্জের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোলাগঞ্জ, লোভাছড়া, পাথরঘাট ও বিছনাকান্দির মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর যাতায়াতে এই সেতুর ভূমিকা অপরিসীম।
বক্তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রশাসনের অবহেলার সুযোগে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে সেতুর ঠিক নিচ থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়। এতে সেতুর গঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং গোপনে একাধিক জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও অবকাঠামোর জন্য সরাসরি হুমকি।
সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর সমন্বয়কারী আব্দুল করিম কিম বলেন, “ধলাই নদীতে যা ঘটছে তা নজিরবিহীন। পরিবেশ, নদী এবং জনজীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হক। তিনি বলেন, “ধলাই নদীর এই অবস্থা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগ করতে হবে, যেমন—বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০০০, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইন।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ সংগঠক ও আইনজীবী অরুপ শ্যাম বাপ্পী, সামাজিক সংগঠক সোহাগ তাজুল আমিন, নাট্যকর্মী আহমেদ হোসেন চৌধুরী, এবং ভোলাগঞ্জের স্থানীয় প্রতিনিধি ফয়জুর রহমান, যিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় শিক্ষক নিজাম উদ্দিন মাস্টার।
সমাবেশে আন্দোলন কারীরা ৫দফা  তুলি ধরেন,
১. ধলাই সেতুর নিচ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. সেতুর পিলার ও গঠন কাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে।
৪. ধলাই নদীর বালুমহাল পুনর্মূল্যায়ন করে পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৫.প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় যদি কোনো ক্ষতি হয়, তার পূর্ণ দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জুলাই-আগষ্ট গনঅভ্যুত্থান শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে আত্রাইয়ে

জুলাই-আগষ্ট গনঅভ্যুত্থান শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে আত্রাইয়ে