গোলাম রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের কোনো নাগরিকের সঙ্গে অবিচার বা বেইনসাফি করা হবে না। বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নড়াইল সদর উপজেলার বয়েজ স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে সম্পদের অভাব নেই, কিন্তু সমাজ পরিচালনায় যারা আছেন তাদের নৈতিকতার ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে সততা ও সদিচ্ছার অভাব থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দীর্ঘ সময়ে কেন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তার মতে, রাজনীতিকে যারা ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণ করতে পারে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন স্বস্তির পরিবেশ চায়। পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সাহসের সঙ্গে মাঠে থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, বীররা পিঠে নয়, বুকে গুলি নেয়।
তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জামায়াত কেবল দলীয় বিজয় চায় না, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন সাধারণ মানুষের ভোট ব্যাহত না হয়।

সমাবেশের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং নড়াইলের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
নতুন সংবাদ প্রতিদিন