প্রিন্ট এর তারিখঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৫ PM ||
প্রকাশের তারিখঃ ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ PM
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারালেন গোদাগাড়ীর দিনমজুর হেলাল বসতঘর, রিকশা ভ্যান ও গবাদিপশু পুড়ে ছাই; দগ্ধ স্ত্রী হাসপাতালে
জাহিদুল ইসলাম, গোদাগাড়ী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দিনমজুর হেলাল উদ্দিন। আগুনে তাঁর রিকশা ভ্যান, গবাদিপশু, জামাকাপড়, বইপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নগদ টাকা পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের সাদ্দামপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দিনমজুর হেলাল উদ্দিন। এ সময় তাঁর স্ত্রী রান্নার জন্য রান্নাঘরে যান। রান্নাঘরের পাশে রাখা পাটকাঠিতে কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন রান্নাঘর থেকে পুরো বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতায় ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে হেলালের একটি রিকশা ভ্যান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরিবারের দাবি, ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া একটি বড় ছাগল আগুনে পুড়ে মারা গেছে। একটি গাভীন গরুও গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে।
আগুনে পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার বইপত্র, মেয়ের বই, জামাকাপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ঘরে থাকা নগদ টাকা পুড়ে গেছে। বসতঘরসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব সামগ্রীই আগুনে নষ্ট হয়েছে।
আগুন নেভাতে গিয়ে হেলালের স্ত্রী দগ্ধ হন। পরে তাঁকে প্রেমতলী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, দিনমজুরি করে হেলাল উদ্দিনের যে আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চলত। রিকশা ভ্যানটি ছিল তাঁর আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপকরণ হারানোর পাশাপাশি স্ত্রীও দগ্ধ হওয়ায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগুনে ঘর, ভ্যান, গরু-ছাগল, কাপড়চোপড়—সব পুড়ে গেছে। এখন স্ত্রী হাসপাতালে। কীভাবে চিকিৎসার খরচ দেব আর কীভাবে আবার ঘর তুলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। স্ত্রীর চিকিৎসা, নতুন ঘর নির্মাণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ—সব মিলিয়ে অসহায় পরিবারটি এখন সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ খবীরুদ্দীন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রাজু আহমেদ খান শহীদ ।
আইন-বিষক সম্পাদকঃ এডঃ সুদীপন মোহাম্মাদ।
সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ নৈহাটী, রূপসা, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭৩২৫৯২৪৭১