Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৮ AM || প্রকাশের তারিখঃ ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫১ PM

নড়াইলে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন পানিপাড়ায় অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের উদ্যোগে জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের সমাপনীও অনুষ্ঠিত

News Image

স্টাফ রিপোর্টার 

পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পানিপাড়া গ্রামে ২৫ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে দুই দিনব্যাপী ‘ড. রাফি–ড. বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীও সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক ও স্পোর্টস অ্যানালিস্ট অনুপম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ক্লাব কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক ও জুনিয়র গলফাররা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দুই ধাপে ২৫ হাজার গাছ
আয়োজকরা জানান, প্রথম ধাপে ১২ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হবে। বাকি ১৩ হাজার গাছ আগামী এক বছরের মধ্যে রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, এর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।” পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, যত বেশি গাছ লাগানো হবে, মানুষ তত সুস্থ থাকবে ও তত ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারবে।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, অরুনিমা রিসোর্টের সবুজ প্রান্তর, জলাশয় ও পরিযায়ী পাখির বিচরণ দেশের পর্যটনশিল্পের জন্য বড় সম্পদ। পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি গলফ ট্যুরিজম ও ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ ঘটলে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষ অতিথি অনুপম হোসেন তৃণমূল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াচর্চা বাড়ানো এবং প্রতিভাবান জুনিয়র গলফারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন।
‘পাখির গ্রাম’ এখন ‘গলফের গ্রামও’
স্বাগত বক্তব্যে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান আহমেদ বলেন, পানিপাড়া দীর্ঘদিন ধরে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে গ্রামটি এখন ‘গলফের গ্রাম’ হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। এই গ্রামেরই প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শিশু-কিশোর এখন গলফ খেলছে, যা গর্বের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে অরুনিমাকে ঘিরে বাংলাদেশের গলফ ট্যুরিজমের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে।
জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
১৬ ও ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ক্লাবের ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফারদের পাশাপাশি স্থানীয় উদীয়মান গলফাররা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ক্রীড়ানুরাগী ও সংগঠক এ কে এম শহীদুল আলম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণ গড়ে তোলে। তিনি প্রতিবছর এ ধরনের জুনিয়র গলফ প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশ্বাস দেন। জুনিয়র গলফারদের প্রতিভা বিকাশ ও তৃণমূলে গলফের প্রসারে সহযোগিতার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।