ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুকুরছানা বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অমানবিকতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 6, 2025 ইং
কুকুরছানা বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অমানবিকতা

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ আবাসিক এলাকায় ২৯ নভেম্বর সকালে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সরকারি কোয়ার্টারের কাছে পুকুরে ভাসমান একটি বস্তা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তা উদ্ধার করলে দেখা যায় সদ্যোজাত আটটি কুকুরছানার নিস্তেজ দেহ। মা কুকুরটির অব্যাহত বিলাপ ও অস্বাভাবিক আচরণই ঘটনাটিকে প্রকাশ্যে এনেছে। অভিযোগ উঠেছে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপজেলা কর্মকর্তা হাসনুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি খাতুনের বিরুদ্ধে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক নিন্দা প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক ইউএনও সুবীর কুমার দাশও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।একজন শিল্পী হিসেবে আমি এই ঘটনা কেবল পশুর হত্যা হিসেবে দেখি না। এটি মানবিকতার, নৈতিকতার এবং সহমর্মিতার চরম সংকট। মানুষ হওয়া শুধু মানুষের মতো চেহারা, হাত-পা বা শরীর নিয়ে সম্ভব নয়। প্রকৃত মানুষ হতে হলে প্রয়োজন মনুষ্যত্ব, দায়িত্ববোধ, ন্যায়বোধ এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি। যে ব্যক্তি অন্যের কষ্ট বোঝে, অন্যায় এড়িয়ে চলে, দুঃখে পাশে দাঁড়ায় সে প্রকৃত মানুষ। অন্যদিকে, যিনি নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা বা অমানবিক কাজ করেন, তার সঙ্গে মানুষের তুলনা করা যায় না।কুকুর বিশ্বস্ত প্রাণী। মালিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, উচ্ছিষ্ট খায়, পাহারা দেয়। মা কুকুরটি যখন খাদ্যের খোঁজে দূরে যায়, তখন তার আটটি সদ্যজাত ছানা নিশি খাতুন বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে মেরে দেন। মা কুকুরের বুকফাটা কান্না ও ছানাদের খোঁজ করার দৃশ্য স্থানীয়দের বিবেক কাঁপিয়ে দেয়। পশুপ্রেমীরা পুকুরে ভাসমান বস্তা দেখে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাণগুলোর সত্যতা বুঝতে পারেন।এই ঘটনার একটি দুঃখজনক দিক হলো অপরাধী মহিলার ছোট্ট শিশু এই হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে। শিশু সত্য বলে বেড়াচ্ছে, কিন্তু সমাজের ন্যায় বিচার না হলে তার জন্যও মানসিক ক্ষতি তৈরি হবে। শিশুটি কি অপরাধী? দোষী তার মা, শিশুটি নয়। সত্য বলা শেখা শিশু যেন দোষী না হয়, সেজন্যও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
একজন শিল্পী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, এই ঘটনা কেবল শোক নয়, শিক্ষাও। সমাজে মানবিকতা, দয়া, সহমর্মিতা এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই ধরনের অমানবিকতা প্রতিরোধ করা। সমাজকে সুন্দর ও মানবিক রাখার জন্য কমিটি গঠন, সচেতনতা সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।মানবতা ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া অসম্ভব। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং ন্যায়শাস্ত্র শেখানো জরুরি। কুকুরছানার এই হত্যাকাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের ভেতরের মানবিকতা কতটা শক্তিশালী বা কতটা ধ্বংসপ্রাপ্ত। সত্যিকার মানুষ শুধু দেহে মানুষ নয়, তার মন, চরিত্র ও আচরণে মানুষ।আমি আশা করি, এই ঘটনাটি সমাজের সকলের জন্য শিক্ষা হবে। অপরাধী যথাযথ বিচার পাবেন, আর সমাজ সচেতন হবে মানুষত্ব, নৈতিকতা এবং মানবিক চেতনার মূল্য বোঝার জন্য। কেবল আইন নয়, আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিদিনের জীবনে সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ চর্চা করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অমানবিকতা আর ঘটতে না পারে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মানুষের মাঝে যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অপরাধীর ছোট্ট শিশু মায়ের সাথে জেলে গিয়েছে এটি সকলের কাছে আবারো একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা আত্মপ্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন বিচারক কি সিদ্ধান্ত নিবে এটাই জনগণ ভাবছে। ভবিষ্যতে যেন আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এমন প্রত্যাশায় 
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত, ১২ তম শারদীয়া ফ

শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত, ১২ তম শারদীয়া ফ