ফুলতলা প্রতিনিধি: আবু সাঈদ আকাশ
শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম শেষ করে বের হওয়ার সময় হঠাৎ এক তরুণ শিক্ষক পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলেন। প্রথমে চিনতে না পারলেও ভালোভাবে তাকাতেই চেনা মুখটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি আর কেউ নন—একসময়কার ছোট্ট শিক্ষার্থী জামসেদ হাওলাদার। সময়ের পরিক্রমায় সেই শিক্ষার্থী আজ নিজেই একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
শিক্ষক দিবসে এমন এক আবেগঘন মুহূর্তের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন শিক্ষক শিহাব উদ্দিন ওমর। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শ্রেণি কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় জামসেদ হাওলাদার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করায় তিনি প্রথমে তাকে চিনতে পারেননি। পরে ভালোভাবে তাকিয়ে বুঝতে পারেন, এটি তারই প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
জামসেদ হাওলাদার বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি শিহাব উদ্দিন ওমরের কাছে শিক্ষকতা জীবনের এক অনন্য ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে শিক্ষক শিহাব উদ্দিন ওমর আরও উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও তার শিক্ষক শংকর কুমার দে মহোদয়ের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছেন। আর এখন তার নিজের বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে একই পেশায়, একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবেন—এটিকে তিনি শিক্ষকজীবনের সার্থকতার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।
তিনি আবেগঘন ভাষায় লেখেন, “শিক্ষক দিবসের সবচেয়ে বড় উপহার দিলো জামসেদ হাওলাদার।” প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, জামসেদ যেন একজন ভালো শিক্ষক, ভালো মানুষ এবং উদার মানসিকতার মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
একজন শিক্ষকের কাছে নিজের ছাত্রকে ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি যে কতটা আনন্দ ও গর্বের, শিহাব উদ্দিন ওমরের এই অভিজ্ঞতা তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষক দিবসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাওয়া এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে তিনি জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে দেখছেন।
নতুন সংবাদ প্রতিদিন