স্টাফ রিপোর্টারঃ
খুলনার তেরখাদা উপজেলার নেবুদিয়া বাজার সংলগ্ন নেবুদিয়া খাল দখল করে পাকা ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খাল দখলকে ঘিরে যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেরখাদা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত জনৈক রিয়াজ সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত নেবুদিয়া খালের একটি অংশ দখল করে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, নেবুদিয়া খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। খালের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণ হলে পুরো এলাকা জলাবদ্ধতার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ঘর নির্মাণে বাধা দিলে রিয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই তিনি স্থানীয়দের হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন এবং কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে হয়রানি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, স্থানীয়দের শাসন করতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা এবং প্রভাব করা হচ্ছে পেশীশক্তি দিয়ে। সরকারি জমি দখল করতে স্থানীয় লোকদের থানায় ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিয়াজ স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও নিজ স্বনামে ও বেনামে বিভিন্ন বিলে লাখ লাখ টাকার জমি ক্রয় করেছেন। তার আয়-ব্যয়ের এই অসামঞ্জস্যতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, সরকারি খাস জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন মহলে অর্থ ছড়াচ্ছেন এবং প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করছেন।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের 'অলিখিত ক্যাশিয়ার' হিসেবে পরিচিত। অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে তাদের ধারণা। সামান্য চাকরি করে কীভাবে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করছেন-এ প্রশ্নের উত্তর চান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "খালের মধ্যের ওই জমিটি তার শাশুড়ির নামে কবলা মূলে ক্রয় করা হয়েছে।”
এটি মালিকানা জায়গা বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস খাল এবং কোনোভাবেই ব্যক্তিগত মালিকানার হতে পারে না। স্থানীয়রা বলেন, খাল যখন কাটা হয় তখন তো ব্যক্তি মালিকানা ছিলো। সরকারিভাবে খাল কাটার পর সেটি তো খাস হয়ে যায়। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এলাকাবাসী জোর দাবি জানান, সরকারি খাল যেন কোনোভাবেই দখল করতে না' পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এলাকাবাসী বিষয়টি দ্রুত তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
নতুন সংবাদ প্রতিদিন