আব্দুল হামিদ ( কোম্পানীগঞ্জ) সিলেট
উত্তর সিলেটের গৌরবময় শিক্ষাজীবনের ধারক-বাহক ও সুপরিচিত শিক্ষাবিদ ফয়েজ আহমদ সম্প্রতি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। তিনি বর্তমানে সিলেটের স্বনামধন্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইমেন্স মডেল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের নীরব সংগ্রামী হিসেবে কাজ করে আসা ফয়েজ আহমদের এই স্বীকৃতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি গোটা সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্যও এক প্রেরণার বার্তা। তাঁর এই পদোন্নতিকে উইমেন্স মডেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একটি সময়োচিত সম্মান হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
এক অনন্য শিক্ষাগত যাত্রা
শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই ফয়েজ আহমদ একনিষ্ঠতা ও দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি পিয়াইনগুল কলিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, সালুটিকর ডিগ্রি কলেজ ও ওয়েস্টপয়েন্ট কলেজে নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর শিক্ষাদানে পারদর্শিতা, নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে শিক্ষক সমাজে একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পারিবারিক শিক্ষাবোধের উত্তরাধিকার
ফয়েজ আহমদের শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর পারিবারিক উত্তরাধিকার বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর পিতামহ মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান কেরানী হাজী ছিলেন একজন প্রভাবশালী শিক্ষানুরাগী, যিনি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর পিতা রুহুল আমিন মুতাওয়াল্লী দীর্ঘ ২২ বছর বহর জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শিক্ষার প্রসারে অবিচল থেকেছেন।
সমাজসেবায় ‘আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান কেরানী হাজী ফাউন্ডেশন’
শিক্ষা ও নৈতিকতাকে ভিত্তি করে ফয়েজ আহমদ প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান কেরানী হাজী ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশন বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা তাঁকে একজন সমাজসেবী ও মানবিক সংগঠক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মননশীল গবেষক ও লেখক
শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নন, ফয়েজ আহমদ একজন গবেষক ও লেখক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
পদোন্নতি প্রসঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
পদোন্নতি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সহকারী অধ্যাপক ফয়েজ আহমদ বলেন—
“এই অর্জন আমার একার নয়। আমি কৃতজ্ঞ আমার সহকর্মী, শিক্ষার্থী, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষভাবে অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার স্যারের প্রতি। তাঁদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনায় আজ আমি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও আমি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
নতুন সংবাদ প্রতিদিন