ঢাকা | বঙ্গাব্দ

খুলনার রূপসায় একটি স্কুলের জায়গা দখল নিয়ে মালিক ও স্কুল পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান ।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
খুলনার রূপসায় একটি স্কুলের জায়গা দখল নিয়ে মালিক ও স্কুল পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান ।
মোঃ আবুল হাসনাত

এই ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও জমির মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জায়গাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র করে। ১৯৯৩ সালে স্থাপিত  শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দখলকৃত জায়গা গত ২ এপ্রিল সকাল ১১ টায় মামলায় রায় প্রাপ্ত ক্রয়কৃত জমির মালিক আলহাজ্ব শাহজাহান শেখকে দখল বুঝিয়ে দিতে উকিল কমিশন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ প্রটোকল নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। এ সময় অত্র স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দরা স্কুলের দখলকৃত জায়গা রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। উকিল কমিশন তাদের কার্যক্রম চলমান রাখতে গেলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চরম বাঁধা আসে। এ থেকে সৃষ্ট হয় একপ্রকার উত্তেজনা। শিক্ষার্থীদের বাঁধার মুখে উকিল কমিশন তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়।  শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে  শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এমন ঘটনায় তারা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি'র অসংখ্য নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপি'র আহবায়ক ও সাবেক নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা সাইফুর রহমান বলেন, স্কুলের জায়গা নিয়ে বিবাদের ঘটনা শুনে আমি এসেছি। এ ঘটনায় আমরা একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ভাই এটা জেনেছে। তিনি এ ঘটনায় একটি সুষ্ঠু সমাধান করে দেবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা অচিরেই সমাধান হবে। প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন দূর থেকে আমি দেখতে পাইনি। প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, এ বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের সহযোগিতায় তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছে আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার জন্য। আমরা বিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদেরকে কোন নোটিশ না'দিয়ে এভাবে স্কুলের খেলার মাঠ সহ স্কুলের জায়গা দখল করতে এসেছে। যেটি স্কুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যার দরুণ শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হবে। এই মাঠে স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। আমার শিক্ষার্থীদেরও আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই। এসময় উকিল  কমিশন বলেন, আমরা আদালতের রায় নিয়ে এসেছি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা পায়নি। বরং তাদের বাঁধার মুখে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সরজমিনে গিয়ে ক্রয়কৃত জমির মালিক সুত্রে জানা যায়, রূপসার মৃত শামসুর রহমান মিনা এক দাগে ১৭৫ শতাংশ জায়গা থেকে শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ১০০ শতাংশ  ও একটি মসজিদের নামে ৫ শতাংশ জায়গা দান করেন। বাকি ৭০ শতাংশ জায়গা তার ওয়ারেশগণ বাগমারা নিবাসী আলহাজ্ব শাহজাহান শেখের নিকট বিক্রয় করেন। শাহাজান শেখ তার ক্রয়কৃত ৭০ শতাংশ জায়গা দখল নিতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাতে বাধ সাধেন। তখন তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বছর মামলা চালিয়ে সম্প্রতি তিনি রায় পেয়েছেন। তারই ফলশ্রুতিতে উকিল কমিশন জায়গার দখল বুঝিয়ে দিতে আসেন।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি

ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি