ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আপার ভদ্রা নদী খননে চুকনগর আশ্রায়ণ প্রকল্পের ১৪৭ পরিবার আশ্রয়হীন: খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
আপার ভদ্রা নদী খননে চুকনগর আশ্রায়ণ প্রকল্পের ১৪৭ পরিবার আশ্রয়হীন: খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে আপার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদ হওয়া চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪৭টি পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে এসব পরিবারের অস্থায়ী আশ্রয় হয়েছে স্থানীয় চুকনগর আজাদ স্পোর্টিং ফুটবল মাঠে। খোলা আকাশের নিচে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ কয়েকশ মানুষ এখন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার।
সরেজমিনে ডুমুরিয়ার  চুকনগর আজাদ স্পোর্টিং ফুটবল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের এক প্রান্তে টিন, পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। সেখানে নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। গত কয়েক দিনের তীব্র গরম এবং আকস্মিক বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রান্নার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় অনেক পরিবারকে আধপেটা খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য পারুল বেগম, আজিজুল গাজী, চন্দন বিশ্বাস ও টুনি বেগম ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "নদী খননের জন্য আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু আমাদের তো থাকার কোনো বিকল্প জায়গা দেওয়া হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা সপরিবারে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছি। খোলা মাঠে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে রান্না করা বা ঘুমানোর কোনো পরিবেশ নেই। আমরা কি এদেশের নাগরিক নই? আমরা দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চাই।
আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন জানান, "আপার ভদ্রা নদী খনন সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পের কারণে হঠাৎ করে ১৪৭টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ায় একটি মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার জানান, "আপার ভদ্রা নদী খনন জনস্বার্থে এবং ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত জরুরি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের এই সাময়িক কষ্টের বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তাদের জন্য বিকল্প আবাসন বা স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক নদীর খননকৃত মাটি প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়েছে এবং মাটি সরানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। আশা করছি দ্রুতই একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্প যেমন দেশের জন্য প্রয়োজন, তেমনি ভূমিহীন ও অসহায় মানুষগুলোর মৌলিক অধিকার ও আশ্রয় রক্ষা করাও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ১৪৭টি পরিবারকে এভাবে ফুটবল মাঠে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা দীর্ঘমেয়াদে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত এই পরিবারগুলোকে নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের দেখা না মেলায় চুকনগরের এই নিঃস্ব পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কমেন্ট বক্স
কালিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও মিছিল

কালিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও মিছিল