বাকেরগঞ্জ ( বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন বিএনপি যেন এখন রং-তামাশার মঞ্চ। সংগঠন চালানোর বদলে নেতারা ব্যস্ত নিজেদের স্বার্থ হাসিলে। তৃণমূলে নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির কার্যক্রম এখন এমন পর্যায়ে নেমে গেছে, যা শিশুদের হান্ডি-পাতিল খেলার থেকেও নিকৃষ্ট। একথায় নাম বদলের খেলা ।
গত ২১ জুলাই ইউনিয়নের ৮১ নং ওয়ার্ডে ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ঘোষণার মাত্র এক মাসের মাথায়ই প্রকাশ পেল অর্থ জন্য
লজ্জাজনক ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতরাতে কমিটির ১৩ নম্বর সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের নাম কারা ফ্লুইড দিয়ে মুছে ফেলে সেখানে কলম দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির নাম বসিয়ে দিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং স্পষ্ট জালিয়াতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
আগামীকাল রংশ্রী ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল। আর এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে— কাউন্সিলে ভোটের হিসাব গড়তে কি আগেভাগেই শুরু হলো নামবদলের খেলা? প্রার্থীরা কি এখন থেকেই নিজেদের লোক বসিয়ে কাউন্সিলকে প্রহসনে পরিণত করতে চাইছেন?
এক ক্ষুব্ধ স্থানীয় কর্মী বলেন, যেখানে কমিটির সদস্যদের নামই রাতের আঁধারে বদলে ফেলা হয়, সেখানে সুষ্ঠু কাউন্সিলের আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এ ঘটনার পর ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা এখন সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন- বিএনপির নেতৃত্ব কি এসব কুকীর্তি দেখেও চুপ থাকবে, নাকি দুর্নীতি আর স্বার্থের খেলায় চোখ বন্ধ করে রাখবে?
রংশ্রী ইউনিয়নের মানুষ মনে করেন, উপজেলা বিএনপির এমন কর্মকান্ডের কারনে দলকে ঐক্যের পথে নিয়ে যাওয়ার,চেয়ে আরও বড় ভাঙনের মুখে ফেলবে।
মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন- আমি দীর্ঘ ৪৮ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতি করি। এ সময়ের মধ্যে কখনো অন্য দলেও যাইনি। কাউন্সিলে নির্বাচনও করতে চেয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি কমিটির তালিকা থেকে আমার নাম মুছে অন্য একজনের নাম হাতে লিখে বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি আইনের দারস্ত হবো।
উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঃ ছালাম সিকদার জানান আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতি করেছি জিয়ার আদর্শকে বুকে লালন করে রাজনীতি করেছি কখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হামলা মামলার শিকার হয়েছি। বর্তমানে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন না পুরো উপজেলা জুড়ে অর্থের বিনিময়ে চলছে আবুল হোসেন খানের ঘষামাজা কমিটি , যার কারণে ত্যাগীদের বাদ পরেছেন। এটা আসলে কাম্য না। আবুল হোসেন খান টাকার বিনিময়ে এইরকম কাজ করবেন, বিষয়টি বোধগম্য নয়।
বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শুক্কুর হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে কমিটি দিয়েছেন, অর্থের বিনিময়ে। যেখানে আমার নামটি ওয়ার্ড কমিটির সদস্যতে পর্যন্ত রাখেনি।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর ছয় নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরামিন হাওলাদারসহ ১৪ জনকে বাদ দিয়ে হবিব খানের বাড়ির মধ্যে ১৩ জন ও তার ঘরের সাত জনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে, এর মধ্যে তিন জন হলেন আওয়ামী লীগের শাহজাহান বিশ্বাস, নান্না বিশ্বাস, রফিক হাওলাদার।
এবিষয়ে হববি খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বাড়ির মানুষ ও আমার চেয়ে বড়ো বিএনপি কে আছে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন না এই উপজেলায়।
বাকেরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সদস্য এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান মোল্লা বলেন- এরআগেও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এমন চিত্র দেখা গেছে। একটি পক্ষ স্বার্থ হাসিলের জন্য ত্যাগীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে তালিকা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আনোয়ার মাওলানা বলেন- বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এমন কিছুই ঘটেনি। একটি পক্ষ এ নিয়ে কাজ করছে।
নতুন সংবাদ প্রতিদিন